শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯
logo
নিউ ইয়র্কে এবার ছুরিকাঘাতে বাংলাদেশি নারী খুন
প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২০:০০:৫৮
প্রিন্টঅ-অ+
প্রবাস ওয়েব

চাঁদপুর: ইমামসহ দুজনকে গুলি চালিয়ে হত‌্যার মাস না গড়াতেই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশি এক নারী ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছেন।
বুধবার রাতে (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকাল) নিহত নাজমা খানম ঝর্না (৬০) কুইন্সের জ‌্যামাইকা হিলস এলাকায় থাকতেন। তিনি ‘ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক’ হামলার শিকার বলে স্বজনদের ধারণা।
রাত ৯টার দিকে বাড়ির সামনেই নরম‌্যাল রোডে নাজমা দুর্বৃত্তের হামলার শিকার হন বলে পুলিশ ও তার স্বজনরা জানিয়েছে।
তিন সন্তানের মা নাজমার এক সন্তান নিউ ইয়র্কে থাকেন। অন‌্য দুই ছেলে-মেয়ে থাকেন বাংলাদেশে। শরীয়তপুর জেলার বাসিন্দা নাজমা বাংলাদেশে স্কুলে শিক্ষকতা করতেন।
নাজমার বোনের ছেলে মোহাম্মদ কবির নিউ ইয়র্ক মুসলিম পুলিশ অফিসার অ‌্যাসোসিয়েশনের সদস্য।
পুলিশ জানায়, ঘটনার সময় কাছেই ছিলেন নাজমার স্বামী সামসুল হক। স্ত্রীর চিৎকারে তিনি এগিয়ে আসার আগে হামলাকারীরা কেটে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে নাজমাকে জ্যামাইকা হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাকে বাঁচানো যায়নি।
নাজমার ভাই বাংলাদেশে থাকা আলতাফ হোসেন ভগ্নিপতিকে উদ্ধৃত করে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, তার বোন এবং ভগ্নিপতি কেনাকাটার জন্য বাসার বাইরে গিয়েছিলেন। ফেরার সময় বাসার কাছাকাছি আসার আগে তার বোন কিছুটা এগিয়ে যান।
“এরই মধ্যে বোনের চিৎকার শুনে ভগ্নিপতি তাকিয়ে দেখেন, ২/৩জন দুর্বৃত্ত বড় ধরনের চাকু দিয়ে বুকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যাচ্ছে।”
নাজমার ভাগ্নে নিউ ইয়র্ক প্রবাসী মোহাম্মদ রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এটা হেইট ক্রাইম। কারণ আমার খালা মুসলিম পোশাকে হাঁটছিলেন। তার কাছে থেকে কিছুই নেয়নি দুর্বৃত্ত।”
তবে পুলিশ কর্মকর্তারা এখনি কোনো সিদ্ধান্ত না টেনে বলেছেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।
নিউ ইয়র্ক পুলিশের পক্ষ থেকে ঘাতককে গ্রেপ্তারে সহায়তা চেয়ে কোনো তথ‌্য থাকলে তা ১-৮০০-৫৭৭-৮৪৭৭ নম্বরে ফোন করে জানাতে বলা হয়েছে।
প্রায় ১০ বছর আগে ডিভি লটারিতে যুক্তরাষ্ট্রের পাড়ি জমিয়েছিলেন শরীয়তপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ‌্যালয়ের শিক্ষক নাজমা। তার স্বামীও শরীয়তপুর সরকারি কলেজের শিক্ষক ছিলেন।
সেখানে গিয়ে তারা ব্যবসা করছিলেন বলে জানান আলতাফ।
গত ১৩ অগাস্ট কুইন্সের ওজন পার্কে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয় বাংলাদেশি ইমাম মাওলানা আলাউদ্দিন আকঞ্জি (৫৫) এবং তার সাথী থারা মিয়াকে (৬৪)।
ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে অস্কার মরেল (৩৫) নামক এক স্পেনিশভাষীকে।
১৭ দিনের ব্যবধানে আরেক বাংলাদেশি পথে হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ায় কুইন্সের জ্যামাইকা এবং ওজনপার্ক এলাকায় বসবাসরত লক্ষাধিক বাংলাদেশির মধ‌্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আকবর হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এখানকার সব বাংলাদেশিই বাঙালি পোশাকে চলাফেরা করেন। এভাবে চোরাগুপ্তা হামলার শিকার হওয়ায় কেউই এখন নিরাপদবোধ করছেন না।”
১৫ বছর ধরে ওই এলাকায় বসবাসরত আকবর বলেন, “ভেবেছিলাম, এটি আমাদের নিরাপদ আবাস। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ের কিছু ঘটনায় একেবারেই অপরিচিত লাগছে এলাকাটি।”
 

প্রবাস এর আরো খবর