শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯
logo
সুশীল সমাজের নিরবতায় স্থান পাচ্ছে জঙ্গিরা
প্রকাশ : ১৩ জুলাই, ২০১৬ ০৯:৩১:২৪
প্রিন্টঅ-অ+
প্রবাস ওয়েব

যুক্তরাজ্য : বাংলাদেশের ‘চলমান সংকটে’ উদ্বেগ জানিয়ে এক আলোচনায় ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এমপিরা বলেছেন, দেশটিতে গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতা ধসে পড়েছে।
বাংলাদেশে এখনও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ‘সুপ্রতিষ্ঠিত’ হয়নি উল্লেখ করে তারা বলেছেন, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোকে ‘সমঝোতায়’ আসতে হবে।
আলোচনায় ঢাকার গুলশানের স্প্যানিশ রেস্তোঁরা হলি আর্টিসানে নজিরবিহীন সন্ত্রাসী হামলাসহ বিভিন্ন সময় সংঘটিত জঙ্গিহামলা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে ভিটেমাটিছাড়া করানোর মতো বর্বরতার নিন্দা জানানো হয়।
মঙ্গলবার (১২ জুলাই) যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের হাউস অব কমন্সের সেমিনার কক্ষে ওই আলোচনার আয়োজন করে সিটিজেন মুভমেন্ট। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
প্রবন্ধে রুমিন বলেন, ‘সরকার ভিন্নমতকে পুরোপুরি দমন করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় বন্ধ করা হচ্ছে মিডিয়া।’
ব্রিটিশ এমপি সাইমন ডানুজক বলেছেন, ‘বাংলাদেশে সুশীল সমাজ চুপসে যাচ্ছে এবং সুশীল সমাজের জায়গায় স্থান করে নিচ্ছে জঙ্গিরা। অতীতে মধ্যপন্থী মুসলিম দেশ হিসেবে পরিচিত দেশটিতে ক্রমেই জঙ্গিরা শক্তিশালী হয়ে উঠছে।’
‘সম্প্রতি ছুরি ও চাপাতির আঘাতে যাদের খুন করা হয়েছে তাদের হত্যার দায় স্বীকার করেছে আইএস জঙ্গিগোষ্ঠী, যদিও বাংলাদেশ সরকার এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ইসলামিক স্টেটের জঙ্গিদের সম্পৃক্ততা নাকচ করে দিয়েছে’, বলেন সাইমন।
ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বাংলাদেশ বিষয়ক অল পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের চেয়ারম্যান অ্যান মেইন এমপি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতি ও নির্বাচন নিয়ে হাউস অব কমন্সে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হতে পারছে না।’
বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বে পরস্পরের প্রতি আস্থা নেই উল্লেখ করে এমপি রিচার্ড ফোলার বলেন, ‘গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিতে হলে রাজনীতিবিদদের মধ্যে অবশ্যই সমঝোতার প্রয়োজন রয়েছে।’
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়ে রিচার্ড অভিযোগ করেন, ‘সন্ত্রাসী হামলার সঠিক তদন্ত না হওয়ায় দেশটিতে জঙ্গিবাদের উত্থান হচ্ছে।’
আলোচনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন এমপি নিস ডাকিন, পাওয়েল ব্লুমফিল্ড, জেমস কার্টেইজ, অ্যান্ডু স্টিভেন, অ্যান্ডু সিমেন্স, জিম পেট্রি, সিটিজেন মুভমেন্টের চেয়ারম্যান এম এ মালিক প্রমুখ।
এতে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ছাড়াও যুক্তরাজ্য পার্লামেন্টের সংসদ সদস্যসহ পেশাজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রবাস এর আরো খবর