শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০
logo
সাবিনা-রুনার পরিবেশনায় মুগ্ধ নিউইয়র্ক প্রবাসীরা
প্রকাশ : ২১ মে, ২০১৬ ২০:২২:৪৭
প্রিন্টঅ-অ+
প্রবাস ওয়েব

নিউইয়র্ক: যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক নগরীর প্রবাসীদের মাতিয়েছেন প্রখ্যাত দুই সংগীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমীন ও রুনা লায়লা। রোববার গানে গানে নন্দিত দুই শিল্পী প্রবাসীদের মুগ্ধ করেন।
 
প্রথমবারের মতো দেশের বাইরে বাংলাদেশের জীবন্ত দুই কিংবদন্তি সাবিনা ইয়াসমীন এবং রুনা লায়লা একই মঞ্চে গাইলেন। তাঁদের কণ্ঠের জনপ্রিয় বাংলা গানে কণ্ঠ মেলালেন প্রবাসীরা। নিউইয়র্ক ও আশপাশের অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশিরা সাবিনা-রুনার সুর মূর্ছনার ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকলেন।
 
বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ তথা উপমহাদেশের সংগীতজগতের দুই কিংবদন্তি সাবিনা ইয়াসমীন ও রুনা লায়লার ‘লাইভ কনসার্ট’ প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় গতকাল রোববার জ্যামাইকার ইয়র্ক কলেজ মিলনায়তনে ওই কনসার্ট হয়। এই কনসার্টের আয়োজক ছিল শোটাইম মিউজিক।
 
গতকাল রাত আটটার দিকে অনুষ্ঠান শুরু হয়ে শেষ হয় রাত ১১টায়। এতে শিল্পীদ্বয়ের সংগীত পরিবেশনার পাশাপাশি নৃত্যও ছিল। সাবিনা ইয়াসমীন ও রুনা লায়লার গান আর সুরে মুগ্ধ হলো সহস্র দর্শক-শ্রোতা।
 
অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন সাবিনা ইয়াসমীন। তাঁর গান পরিবেশনার আগে তিনি বাংলাদেশের অবহেলিত ও বঞ্চিত শিশুদের জন্য তাঁর কর্মকাণ্ডের সঙ্গে প্রবাসীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। সাবিনার আহ্বানে তাঁর প্রকল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রবাসী ডা. এহসান এ সময় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন।
 
এরপর সাবিনা তাঁর সুরেলা কণ্ঠে একে একে জনপ্রিয় ১৬টি গান পরিবেশন করেন। গানের ফাঁকে ফাঁকে সাবিনা তাঁর গান, গানের গীতিকার ও সুরকার এবং প্রেক্ষাপটও তুলে ধরেন।
 
ইয়র্ক কলেজের মিলনায়তন ভর্তি সর্বস্তরের দর্শক-শ্রোতার মুহুর্মুহু করতালির মধ্য দিয়ে সাবিনা যখন গান পরিবেশন করছিলেন, তখন উপস্থাপন সময়ের দিক বিবেচনা করে তাঁকে শেষ করার অনুরোধ জানানো হয়। সাবিনা বলেন, “আমি তো শেষ করতেই চাই, কিন্তু দর্শক তো শেষ করতে দিচ্ছেন না।” এ সময় দর্শক-শ্রোতাদের পক্ষ থেকে আরও গান পরিবেশনের দাবি ওঠে। এর মধ্যেই সাবিনা ইয়াসমীনকে তাঁর পরিবেশনা শেষ করতে হয়।
 
সাবিনা ইয়াসমীনের গান শেষে শোটাইম মিউজিকের পক্ষ থেকে তাঁকে সম্মাননা দেন ডিজিটাল ওয়ান ট্রাভেলসের প্রেসিডেন্ট বেলাল আহমেদ। এরপর অনুষ্ঠানটির আয়োজক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক, বিশিষ্ট রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টর মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন শিল্পী সাবিনা ইয়াসমীন।
 
রাত পৌনে ১০টার দিকে মঞ্চে আসেন রুনা লায়লা। তিনি বাংলা আর উর্দুতে একাধিক গান গেয়ে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতার মন কাড়েন। রুনা লায়লার গান পরিবেশনের মাঝে শোটাইম মিউজিকের পক্ষ থেকে তাঁকে সম্মাননা দেন উৎসব ডটকমের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রায়হান জামান। এরপর অনুষ্ঠানটির আয়োজক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক, পিপলএনটেকের প্রেসিডেন্ট আবু বকর হানিফের হাতে প্ল্যাক তুলে দেন শিল্পী রুনা।
 
সবশেষে রুনা-সাবিনা এক মঞ্চে যৌথভাবে দুটি গান পরিবেশন করেন। একই মঞ্চে বাংলাদেশ তথা উপমহাদেশের সংগীতজগতের দুই কিংবদন্তি রুনা লায়লা ও সাবিনা ইয়াসমীনের ‘লাইভ কনসার্ট’ বিরল ঘটনা হিসেবে দেখছেন তাঁদের ভক্ত-শ্রোতা আর দর্শকেরা। কনসার্টের উপস্থাপনায় ছিলেন আবীর আলমগীর ও শামসুন নাহার নিম্মি।
 
নিউইয়র্কের ব্রুকলিন চার্চ অ্যাভিনিউতে আরেক অভূতপূর্ব সমাবেশ হয়। সেখানে হাজারো নারী-পুরুষ, আবালবৃদ্ধবনিতার সমাবেশ হয়। হাজারো কণ্ঠে তাঁরা বাংলাদেশের গান করেন।
 
মার্কিন রাজনীতিবিদেরাও এমন পরিবেশ দেখে বিমুগ্ধ ও বিস্মিত হন। মানুষের ঢল দেখে উল্লাস প্রকাশ করে তাঁরা বলেছেন, ব্রুকলিন এখন বাংলাদেশিদের। ব্রুকলিনের প্রেসিডেন্ট এরিক এডাম বাংলাদেশিদের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
 
বেলা দুইটার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার কর্মকাণ্ড শুরু হয়। এতে ভাষাসৈনিক শামসুল হক উপস্থিত ছিলেন।
 
বাংলাদেশি-আমেরিকান ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটি (বাফস) ও ৬৬ প্রিসিঙ্কট কমিউনিটি কাউন্সিলের আয়োজনে গত বছর প্রথম বৈশাখী মেলা হয়। এবার ছিল দ্বিতীয় বৈশাখী মেলা। মেলার মূল পর্ব টাইম টেলিভিশন সরাসরি সম্প্রচার করে।

প্রবাস এর আরো খবর