বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০
logo
নিউইয়র্কের রাস্তায়-ডাস্টবিনে বাংলাদেশিদের বায়োডাটা!
প্রকাশ : ০৬ মে, ২০১৬ ১৩:১৩:২৮
প্রিন্টঅ-অ+
প্রবাস ওয়েব

নিউইয়র্ক : প্রবাসীদের ছবিসহ জীবনবৃত্তান্তের কপি কুইন্সের রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে বিস্ময়ে হতবাক হয়েছেন অনেকে। রাস্তাটি নর্দার্ন বুলেভার্ডে অবস্থিত বাংলাদেশ কন্স্যুলেটের নিচ দিয়ে। মেশিনে রিডেবল পাসপোর্টের (এমআরপি) জন্যে করা আবেদনের কপি অনেকে কুড়িয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ ওই কপিতে দেয়া ফোন নম্বরে যোগাযোগ করে তা সংশ্লিষ্টদের দিয়ে দিচ্ছেন।
এপ্রিল মাসের শেষার্ধে বেশিরভাগ আবেদনের এমআরপি বিতরণের সিল রয়েছে। অর্থাৎ এগুলো কন্স্যুলেটের সংরক্ষণ করার কথা। অপ্রয়োজনীয় হলে যথানিয়মে বিনষ্ট করার কথা। কারণ, এসব আবেদনে প্রবাসীদের নাম-ঠিকানা-জন্ম তারিখসহ ছবি রয়েছে। এগুলো ব্যবহার করে অনেক অপকর্মই সংগঠিত করতে পারবে দুর্বৃত্তরা। কিন্তু কন্স্যুলেট তা করেনি।
এসব আবেদনে সোস্যাল সিকিউরিটি নম্বর না থাকলেও কারো কারো আবেদনে স্টেট আইডি অথবা ড্রাইভিং লাইসেন্সের কপি রয়েছে। এসব তথ্য দিয়ে সোস্যাল সিকিউরিটি নম্বরও সংগ্রহ করা যায়। ভুয়া গ্রিনকার্ড তৈরি কিংবা ড্রাইভিং লাইসেন্স অথবা ক্রেডিট কার্ড বানিয়ে সংশ্লিষ্টদের সর্বনাশ করার ঘটনাও এর আগে অনেকবার ঘটেছে।
ঘটনাটি ৩০ এপ্রিল শনিবারের। কন্স্যুলেট অফিস বন্ধ। সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় রাস্তায় যান চলাচলও কম। নিউইয়র্ক সিটিতে ইয়েলো ট্যাক্সি চালাক মো. নাসির ওই পথ অতিক্রম করছিলেন হেঁটে। নর্দার্ন বুলেভার্ডে টিএলসির (ট্যাক্সি অ্যান্ড লিমুজিন কমিশন) একটি অফিসে ৩ ঘণ্টার একটি কোর্সে অংশ নেন নাসির। সেখান থেকেই হেঁটে এস্টোরিয়ায় যাচ্ছিলেন বৈশাখী রেস্টুরেন্টে।
পথিমধ্যে শত শত বাংলাদেশির ছবি সংবলিত ফাইল বাতাসে উড়তে এবং রাস্তায় ময়লা-আবর্জনার মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে থমকে দাঁড়ান নাসির। একপর্যায়ে একটি ফাইল হাতে নেন। পরখ করেন গভীরভাবে। চমকে ওঠেন তিনি। এরপর যতটা সম্ভব কপি কুড়িয়ে নেন। পরে বৈশাখী রেস্টুরেন্টে বসে ওই ফাইলের নম্বর দেখে কল করেন। ব্রঙ্কস থেকে ছুটে আসেন ইকবাল ফারুক। সস্ত্রীক চলে আসেন গোলাম কিবরিয়া। বিস্ময়ে হতবাক হন তারা।
তারা বলেন, এমআরপির জন্যে করা আবেদনের এসব নথি কন্স্যুলেটে থাকার কথা। এগুলো রাস্তায় পড়ে থাকে কী করে।
কিবরিয়া বলেন, ‘গত ২৫ এপ্রিল ডেলিভারি নিয়েছি আমাদের পাসপোর্ট। ৫ দিন পরই সে আবেদনের সমস্ত নথি রাস্তায় ফেলে দেয়া হলো কেন?’
এস এম ইকবাল ফারুক বলেন, ‘২৪ এপ্রিল ডেলিভারি নিয়েছি আমার এমআরপি। ৬ দিন পরই সে আবেদন ফেলে দেয়া হলো রাস্তায়। এটি মেনে নেয়া যায় না। সরকারি অফিসের এমন গুরুত্বপূর্ণ নথি সংরক্ষণের কি কোনো নিয়ম নেই? বিনষ্ট যদি করতেই হয়, তাহ লে তা রাস্তায় কেন?’
এ ঘটনায় জড়িত বাংলাদেশ কন্স্যুলেটে দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শাস্তি দাবি করেন তারা। তারা নিশ্চয়তা চান, এমন কাণ্ড যেন আর কখনো না হয়।
তবে কনসাল জেনারেল শামীম আহসান এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। বলেছেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং অবশ্যই ভুলবশত ঘটেছে। ইতোমধ্যেই আমি সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করে দিয়েছি। এমন ভুলের যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে।’
কন্সাল জেনারেল জানান, পাসপোর্ট অথবা ভিসার আবেদন পাবার পর তার বিপরীতে পাসপোর্টগুলো ডেলিভারি হওয়ার পর নির্দিষ্ট একটি সময় পর্যন্ত তা সংরক্ষণ করা হয়ে থাকে। এরপর তা ডিসপোজ করার নিয়ম। তবে এক্ষেত্রে যেটি ঘটেছে তা কোনো নিয়মেই সিদ্ধ নয়।
‘এটিকে মারাত্মক ত্রুটি হিসেবে বিবেচনা করছি’ বলেন শামীম আহসান। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কোনো কাজেই কারো সোস্যাল সিকিউরিটি নম্বরের প্রয়োজন পড়ে না। তাই কোনো আবেদনেই সোস্যাল সিকিউরিটি নম্বর থাকার প্রশ্নই ওঠে না।
শামীম আহসান আরও বলেন, ‘বিষয়টি গোচরে আসার পরই আমরা রাস্তা থেকে বেশ কিছু নথি কুড়িয়ে সংরক্ষণ করেছি।’
উল্লেখ্য, এর আগে কন্স্যুলেট অফিস ম্যানহাটান মিড টাউনে থাকাবস্থায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি নিচে ফেলে দেয়ার ঘটনায় জড়িতরা এখনও শনাক্ত হয়নি। তিন বছর আগে নিউইয়র্কে বাংলাদেশ মিশনের সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশে বসা সে সময়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানিয়েছিলেন, ‘নিজস্ব ভবনে কন্স্যুলেট স্থাপনের জন্যে সুন্দর একটি ভবন খোঁজা হচ্ছে।’ তবে এখনও সে খোঁজাখুঁজি শেষ হয়নি!
নিজস্ব ভবনে কন্স্যুলেট স্থাপনের সময় একটি কমিউনিটি সেন্টারের স্বপ্নও প্রবাসীদের পূরণ হবে বলে  আশা করছেন প্রবাসীরা। শুধু তা-ই নয়, তারা ভাবছেন, এগিয়ে চলা বাংলাদেশের পতাকা পতপত করে উড়বে ওই ভবনের সামনে।

প্রবাস এর আরো খবর