বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯
logo
হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ ঢেঁকি সেচকল
প্রকাশ : ০৭ মার্চ, ২০১৭ ১৪:৩৩:৪২
প্রিন্টঅ-অ+
চট্টলা ওয়েব
মিরসরাই: মিরসরাইয়ে কালের বিবর্তনে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে ঢেঁকি কলের মাধ্যমে আবাদী জমিতে সেচ প্রদান। আধুনিক প্রযুক্তি যন্ত্রের মাধ্যমে সেচ প্রদানে আজ বিলুপ্তির পথে ঢেঁকি সেচকল। আগে কৃষকরা ঢেঁকি কল দ্বারা আবাদী জমিতে সেচ দিতেন।
কালের আবর্তে হারিয়ে যাবার পথে আমাদের দেশের গ্রামীণ জনপদের এই উপজেলার মাঠে এখনো দেখা যাচ্ছে বিরল এই ঢেঁকি সেচ যন্ত্র।

উপজেলার খৈয়াছড়া গ্রামে সেদিন সদ্য রোপন করা ইরিধান এর ক্ষেতে ঢেঁকি কল দিয়ে পানি সেচ দিচ্ছিল কৃষক ওবায়দুল হক।

তিনি বললেন প্রতি বছরের মতো এবারো ৬৪ শতক জমিতে চাষ করেছি। এখানে ছরার পানি জমাট থাকা রয়েছে একটি ছোট্ট লেকও । লেকের পাড়ে খেজুর গাছের খোল দিয়ে তৈরি করা বাঁশের খুঁটি, হাতল, ও ঢেঁকি কলে পারাপারের সাঁকোসহ সহজতর এই ঢেঁকি কলে তিনি বেশ অনায়াসেই সেচ দিচ্ছেন।

শুধু কৃষক ওবায়দুল নয় আশেপাশের কৃষক সাহাব উদ্দিন, বিজন পাল সহ প্রায় ৭ একর জমিতে সকল কৃষক একই লেক থেকে একই সেচ কল দিয়েই চাষ করছে ইরিধান।

কয়েক বছর ধরেই চলছে একই স্থানে একইভাবে ইরিচাষ।

এছাড়া সরেজমিনে দেখা যায় যে, উপজেলার হিঙ্গুলী, দুর্গাপুর, ওয়াহেদপুর, আমবাড়িয়া, করেরহাট, খৈয়াছরা এলাকায় এমন ঢেঁকি কল দ্বারা সেচে সফলতা সম্ভব বলে জানান কৃষক তাজুল ইসলাম
অনেক গ্রামেই দুজন মিলে ছরা থেকে সেচ দিয়ে পানি তুলছে সবজি কিংবা ইরি ক্ষেতে। কেউ বা পাম্প বসিয়ে ও সেঁচ দিচ্ছে। কিন্তু ঢেঁকি কল একটি প্রাকৃতিক নির্ঝাট সেচ যন্ত্র। গ্রামীন এই সেচ কল গ্রামবাংলার আবহমান ঐতিহ্য। এর প্রচলন ধরে রাখলে নানাভাবে উপকৃত হওয়া সম্ভব কৃষকদের।

 মিরসরাই উপজেলা কৃষি সুপারভাইজার নুরুল আলম বলেন আমরা ও কৃষকদের এখন নতুনভাবে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করছি এসব প্রাকৃতিক যন্ত্র ব্যবহারে। এতে করে ডিজেল ক্রয় করে সেচ বর্জন হলে প্রাকৃতিক কোমলতা ও বিশুদ্ধতা বৃদ্ধি পাবে।

২য় রাজধানী এর আরো খবর