মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯
logo
মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক বাড়লেও বাড়েনি সেবা
প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর, ২০১৬ ১৬:৩২:১৫
প্রিন্টঅ-অ+
চট্টলা ওয়েব
মিরসরা্ই: মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মস্তাননগর হাসপাতালে চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়লেও সেবা বাড়েনি। প্রতিদিনই বর্হি বিভাগে চিকিৎসা নিতে এসে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে রোগীরা। হাসপাতালে খাতাকলমে ডাক্তার থাকলেও তাদের নিয়মিত অনুপস্থিতিতে রোগীরা পর্যাপ্ত সেবা পাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

রোগীদের পর্যাপ্ত সেবা না বাড়ার কথা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটি সভাপতি জসীম উদ্দিনও স্বীকার করেন।

জানা গেছে, উপজেলার প্রায় ৫ লাখ লোকের স্বল্প ব্যয়ে চিকিৎসার একমাত্র ভরসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। সেবার মান বাড়াতে ৩১ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিকে ২০০৮ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। গত কয়েক বছর যাবত চিকিৎসক সংকটের কারণে রোগীদের সেবা দেয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ ছিল। কিন্তু বর্তমানে হাসপাতালের কাগজেকলমে ২৫ জন ডাক্তার রয়েছে।

এদের মধ্যে প্রতিদিনেই ৭-৮ জনের বেশি ডাক্তার হাসপাতালে উপস্থিত থাকেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে যারা হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করেন বর্হি বিভাগের রোগীদের চিকিৎসা দিতে ওই ডাক্তারদের হিমশিম খেতে হয়। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে রোগীদেরও ভোগান্তি পোহাতে হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন সাড়ে ৪’শ থেকে ৫’শ রোগী উপজেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে এসে চিকিৎসা নিতে বর্হি বিভাগের ডাক্তারদের কাছে ভীড় করে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল ১১ টায় হাসপাতালের বর্হি বিভাগে রোগীদের দীর্ঘ লাইন। সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা রোগীরা লাইনে দাঁড়িয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে হাসপাতালে বর্হি বিভাগে নিয়মিত ২১ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও সেখানে ৭-৮ জন চিকিৎসকের বেশি পাওয়া যায় না। অধিকাংশ চিকিৎসকদের কক্ষে তালা দেয়া থাকে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। ফলে চিকিৎসার জন্য দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীদের বেশীর ভাগ ফিরে যান চিকিৎসা ছাড়া।

হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটি সভাপতি জসীম উদ্দিন জানান, কাগজেকলমে হাসপাতালে ডাক্তার থাকলেও অনেক চেষ্টা করেও ডাক্তারদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। অনেক ডাক্তার বেতন নেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে কিন্তু দায়িত্ব পালন করেন অন্য হাসপাতালে।

তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতাল এলাকায় সুপেয় পানি ও বিদ্যুতের সংকট ছিল। অভিযোগ ছিল হাসপাতাল এলাকায় পানির সংকট থাকায়ও নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকায় ডাক্তাররা হাসপাতাল এলাকায় থাকেন না। এখন প্রায় ৫৫ বছর পর এখন গভীর নলকূপ স্থাপনের মাধ্যমে পানিও ১৪ লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে বিদ্যুৎ সংকট সমাধান করা হয়েছে। নতুন একটি এ্যাম্বুলেন্স আনা হয়েছে। হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা দূর করে হাসপাতালকে রোগীর সেবা বান্ধব করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রতন কুমার দে ডাক্তারদের অনুপস্থিত থাকার কথা অস্বীকার করে বলেন, ডাক্তারদের কেউ কেউ ছুটিতে থাকে, কেউ বিভিন্ন মিটিংয়ে যোগ দেন, কেউ আবার ট্রেনিং করতে এলাকার বাহিরে থাকেন, কেউ ডেপুটেশনে অন্য হাসপতালে কাজ করছেন। ফলে কাগজেকলমে ডাক্তার অনেক থাকলেও হাসপাতালে ডাক্তার দেখা যায় না।

তিনি জানান, গত ৩ বছর ধরে হাসপাতালে এক্স-রে মেশিন নষ্ট, ৩ টি জেনারেটরের মধ্যে দুইটি নষ্ট। মেডিসিন, সার্জারী, গাইনী, চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও রেডিওগ্রাফার পদে কোন লোক নেই। ১৭ জন নার্সের মধ্যে ৯ টি ও ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের ২৫ টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য  হয়ে আছে।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান চৌধুরী জানান, মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তারদের নিয়মিত অনুপস্থিতির বিষয়ে তিনি অবগত আছেন। ডাক্তারদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে একটি প্রতিবেদন হাসপাতাল থেকে প্রতিদিন তার দফতরে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের পদক্ষেপও তিনি নিচ্ছেন।

২য় রাজধানী এর আরো খবর