শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯
logo
মিরসরাইয়ে শীতকালীন সবজির সমারোহ
প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর, ২০১৬ ২০:০০:৪১
প্রিন্টঅ-অ+
চট্টলা ওয়েব
মিরসরাই: দেশের অন্যতম সবজি ভান্ডার হিসেবে খ্যাত চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের বিভিন্ন বাজারে শীতের সবজি আসতে শুরু করেছে। দাম বেশি হওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। মিরসরাই-সীতাকুন্ড উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয় উৎপাদিত সবজি।

প্রতিদিন উপজেলার কোথাও না কোথাও বসে সবজির পাইকারি বাজার। প্রতি বুধবার মিরসরাই পৌর সদরের দক্ষিণ পাশে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গা ঘেঁসে বসে শীতকালীন সবজির বড় হাট।

প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার বড়দারোগারহাটে, রোববার ও বৃহস্পতিবারে মিঠাছড়া, সোম ও শুক্রবারে আবুতোরাব, শনিবার ও মঙ্গলবার বড়তাকিয়া, সপ্তাহে প্রতিদিন করেরহাটে সবজির হাট বসে।

এখানে বসেই কৃষকরা বিক্রি করে ফুলকপি, বাঁধাকপি, বরবটি, লাউসহ বিভিন্ন শীতকালীন সবজি। পাইকারিভাবে ক্রয় করে ব্যবসায়ীরা ট্রাকযোগে নিয়ে যায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। তবে সবচেয়ে বেশি সবজি আসে চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন তরকারি বাজারে।

জানাগেছে, প্রতি বছর গ্রীষ্ম-বর্ষার পুরো সময়টাই যায় পানির দরে সবজি বিক্রি করেন কৃষকরা। এ সময় কয়েক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে নষ্ট হয়ে যায় সবজি ক্ষেত। তার ওপর সবজির মূল্যও থাকে না। তাই অনেকটা নিরুপায় হয়ে পানির দামে সবজি বিক্রি করতে বাধ্য হন চাষিরা।

এ কারণে বছর ঘুরে এ সময়টির অপেক্ষায় থাকে এখানকার হাজার হাজার চাষি। শীতের আগাম সবজি টমেটো, লাউ, মিষ্টিকুমড়া, বরবটি, শিম, শসা, লালশাক, মূলাশাক, বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মূলা, শালগম, ধনেপাতা, কাঁচা মরিচসহ বিভিন্ন ধরনের সবজির স্বাদ যেমন বেশি, তেমনি এ সময়ে সবজির দামও থাকে বেশি।

পাইকারি সবজি বাজারে কেজি হিসেবে বিক্রি হয়েছে বেগুন, মূলা ও বরবটি ৪৫-৫০ টাকা, লালশাক ২০-২২ টাকা ও শসা পাইকারি বিক্রি হয়েছে কেজি ৫০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ টাকা করে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা ১৬টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভায় এবছর ১৮৫০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইতিমধ্যে অর্জিত হয়েছে প্রায় ৮০০ হেক্টর। সবচেয়ে বেশি সবজির লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ওয়াহেদপুর ইউনিয়নে। ওই ইউনিয়নে এবছর ২৫০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজির চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে অর্জিত হয়েছে প্রায় ১৫০ হেক্টর জমির সবজি। এছাড়াও করেরহাট, হিঙ্গুলী, দুর্গাপর, খৈয়াছরা ইউনিয়নে শীতকালীন সবজির প্রচুর চাষ হয়।

মধ্যম ওয়াহেদপুর এলাকার কৃষক খোরশেদ আলম, নুরুল আলম, শাহদাত হোসেন জানান, প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার বড়দারোগাহাট সবজির হাট বসে। হাটের আগের দিন  ও ওইদিন ভোরে সবজি তুলে বাড়িতে রেখে দেন। হাটের দিন খুব ভোরে সবজি নিয়ে আসা হয়। এখনো শীতকালীন সব ধরনের সবজির সরবরাহ কম। তাই দামটা একটু বেশি পাওয়া যাচ্ছে।

শীতকালীন সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন দক্ষিণ ওয়াহেদপুর এলাকার এনামুল হক তিনি জানান, এবছর তিনি প্রায় ৫৬ শতাংশ জমিতে শীকালীন সবজি চাষ করেছেন। ইতিমধ্যে সবজি বিক্রি শুরু করেছেন। দামও পাচ্ছেন ভালো। সবজি চাষে তিনি উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তা নিয়েছেন। সম্প্রতি উপজেলার সবচেয়ে বড় তরকারি বাজার বড়দারোগারহাটে গিয়ে দেখা যায়, বিপুল পরিমাণ উৎপাদিত সবজি বিক্রির জন্য বাজারে নিয়ে এসেছে কৃষকেরা। ব্যবসায়ীরা আগ্রহের সঙ্গে ট্রাকে করে লাখ লাখ টাকার ফুলকপি, বাঁধাকপি, বরবটি, বেগুন, চিচিঙ্গা, লাউসহ বিভিন্ন সবজি দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাচ্ছে।

চট্টগ্রাম শহরের চৌমুহনী কর্ণফুলী বড় সবজি বাজার থেকে পাইকারী দরে বড়দারোগারহাটে সবজি ক্রয় করতে আসা ব্যবসায়ী কোব্বাত মিয়া ও গোলাম ছোবহান বলেন, তারা প্রায় ১৫ বছর ধরে দারোগাহাট থেকে পাইকারী দরে সবজি ক্রয় করে শহরে নিয়ে বিক্রি করে থাকেন। মিরসরাইয়ে উৎপাদিত সবজির কদর ব্যাপক।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বুলবুল আহম্মদ জানান, মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়। তা ছাড়া তাদেরকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে সবজি চাষের উপর প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেয়া হয়। এ কারণে মিরসরাইয়ে আগের চেয়ে বেশি সবজি উপাদন হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, এ বছর উপজেলায় প্রায় ১৮৫০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজির চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

২য় রাজধানী এর আরো খবর