শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯
logo
মিতু হত্যা: মুছাকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা
প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর, ২০১৬ ১৪:৪৪:৩৩
প্রিন্টঅ-অ+
চট্টলা ওয়েব

চট্টগ্রাম: সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতু হত্যা মামলার অন্যতম সন্দেহভাজন কামরুল ইসলাম শিকদার ওরফে মুছাকে ধরিয়ে দিতে পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে চট্টগ্রামের পুলিশ।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কমিশনার ইকবাল বাহার বৃহস্পতিবার নিজের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, মিতু হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত সাতজন গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।
“মুছার নেতৃত্বে একটি দল এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে আমরা তথ্য পেয়েছি্। মুছা নিজে থেকে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, না কারও নির্দেশে এ কাজ করেছে- তা জানার জন্য তাকে গ্রেপ্তার করা জরুরি।”
মুছার অবস্থানের খবর দিতে পারলে বা গ্রেপ্তারে সহায়তা করলে পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
গত ৫ জুন সকালে চট্টগ্রামের ও আর নিজাম রোডে সন্তানের সামনে গুলি চালিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয় তার মিতুকে। তার মাত্র কয়েকদিন আগে তার স্বামী বাবুল আক্তার চট্টগ্রাম থেকে এসপি হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে ঢাকায় বদলি হন।
ওই ঘটনায় বাবুল বাদী হয়ে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় মামলার পর দুই সন্তানকে নিয়ে ঢাকার বনশ্রীতে শ্বশুর বাড়িতে ওঠেন।
ওই বাড়ি থেকে বাবুলকে গত ২৪ জুন ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে ১৪ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর নানা গুঞ্জন ছড়ায়। তখন তার কাছ থেকে জোর করে পদত্যাগপত্র নেওয়ার খবর ছড়ালেও সে বিষয়ে কেউই মুখ খুলছিলেন না।
তার ২০ দিন পর গত ১৪ অগাস্ট স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানান, বাবুলের অব্যাহতির আবেদন তার কাছে রয়েছে। তার ২২ দিন পর ৬ সেপ্টেম্বর বাবুলকে চাকরি থেকে অব‌্যাহতি দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন হয়।
সন্দেহের তালিকায় বাবুল আছেন কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট উত্তর সে সময় পুলিশ কর্মকর্তারা না দিলেও তদন্তের ‘ভালোই অগ্রগতি হয়েছে’ বলে দাবি করেছিলেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার মো. কামরুজ্জামান।
মিতু হত‌্যার পর পুলিশের হাতে সাতজনকে গ্রেপ্তার হওয়া ছাড়াও আরও দুজন পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে মোতালেব মিয়া ওরফে ওয়াসিম ও আনোয়ার হোসেন হত‌্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে গত ২৬ জুন আদালতে জবানবন্দি দেন।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ওই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তারা মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে কামরুল ইসলাম শিকদার ওরফে মুছার নাম বলেন।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ছাত্রলীগ নেতা রাশেদ হত্যাসহ প্রায় ছয় মামলার আসামি মুছা ছিলেন চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার বাবুল আক্তারের সোর্স। মিতুকে হত‌্যার অস্ত্র জোগানদাতা হিসেবে গ্রেপ্তার এহতেশামুল হক ভোলাও পুলিশ কর্মকর্তা বাবুলের সোর্স হিসেবে পরিচিত।
মুছার স্ত্রী পান্না আক্তার জুলাই মাসের শুরুতে চট্টগ্রামে সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেন, সাদা পোশাকে আসা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদ‌স‌্যরা ২২ জুন সকালে বন্দর এলাকায় তাদের বাসা থেকে মুছাকে ধরে নিয়ে যায়। তবে পুলিশ বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমরা তাকে গ্রেপ্তার করিনি, গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি।”
 

২য় রাজধানী এর আরো খবর