বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯
logo
চট্টগ্রামে পোড়ানো হলো মাদকের খুপড়ি ঘর, ৯ জনের জেল
চট্টগ্রামে মাদক আখড়ায় অগ্নিসংযোগ
প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৩:০০:২৯
প্রিন্টঅ-অ+
চট্টলা ওয়েব

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের মাদক আস্তানা হিসেবে পরিচিত বরিশাল কলোনিতে অভিযান চালিয়ে সেবনের খুপড়ি ঘর পুড়িয়ে দিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয়রা।
বুধবার বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কোতোয়ালি ও সদরঘাট থানা পুলিশ যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে।
মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত কেউকে গ্রেপ্তার বা মাদক উদ্ধার করতে না পারলেও আট সেবনকারীকে আটকের কথা জানিয়েছেন অভিযানের নেতৃত্বদানকারী নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ।
এর আগে একই স্থানে গত ৩০ জুন জেলা প্রশাসনের মাদকবিরোধী টাস্কফোর্সের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে মাদক সেবনের ১০টি ঘর পুড়িয়ে দিয়েছিল। তখন এক মাদক বিক্রেতাকে আটক করে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল ভ্রাম্যমাণ আদালত।
পুলিশ কর্মকর্তা রউফ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আগের অভিযানের কিছুদিন পর সেখানে আবার আস্তানা গড়ে তুলেছিল মাদক বিক্রেতারা।”
অভিযানে স্থানীয়রা পুলিশকে সহায়তা করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, অভিযানের পর স্থানীয় লোকজন ১২টি ছোট ও দুইটি বড় খুপড়িসহ মোট ১৪টি মাদক সেবনের ঘর পুড়িয়ে দেয়।
মঙ্গলবার বরিশাল কলোনির পাশেন শ্ববর্তী বাস্তুহারা কলোনি ধোপার মাঠ এলাকায় অভিযান চালায় র‌্যাব। তখন কোনো মাদক উদ্ধার করতে না পারলেও একে-২২ রাইফেল, একটি বন্দুক, দুটি ম্যাগজিন, ১৬টি রকেট ফ্লেয়ার ও চারটি রামদা উদ্ধার করে।
চট্টগ্রামে মাদক বিক্রি ও সেবনের আস্তানা হিসেবে বরিশাল কলোনির পাশাপাশি বাস্তুহারা কলোনি ও মরিচ্চা গলিও পরিচিত।
চট্টগ্রাম রেল স্টেশনের পাশে লাগোয়া এ তিনটি এলাকা বাংলাদেশ রেলওয়ের সম্পত্তি। যেখানে নিম্ন আয়ের কয়েক হাজার পরিবারের বসবাস।
মাদক বিক্রির বিরোধের জের ধরে নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষ, খুন, অপহরণের মতোও বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে এসব জায়গায়। গত ৫ জুন বাস্তুহারা কলোনিতে মো. শফিক (২৮) নামে এক যুবক খুন হন।
এসব এলাকায় বিভিন্ন সময়ে পুলিশ ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালালেও মাদক বিক্রেতারা গ্রেপ্তার হন না।
অভিযোগ আছে প্রশাসন ও পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করে মূলত এসব এলাকায় মাদক ব্যবসায় হয়ে থাকে। অভিযানের আগেই পুলিশের কাছ থেকে খবর চলে যায় মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশ কর্মকর্তা রউফ বলেন, “এসব এলাকায় প্রবেশের পাঁচ থেকে ছয়টি করে রাস্তা আছে। পুলিশ অভিযানে গেলেই বিভিন্ন রাস্তা দিয়ে সটকে পড়ে মাদক ব্যবসায়ীরা।
“এসব এলাকায় ভ্রাম্যমান লোকের বসবাস। আর মাদক ব্যবসায়ীরাই তাদের বাসা ভাড়া দিয়ে থাকে। ফলে পুলিশ অভিযানে গেলেই তাদের সটকে পড়তে ও মাদক লুকিয়ে রাখতে সুবিধা হয়।”
পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, ওইসব এলাকার চিহ্নিত মাদক বিক্রেতারা বিভিন্ন সময়ে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হলেও জামিনে ছাড়া পেয়ে যায়। ফলে তারা বাইরে এসে পুনরায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ে।
রউফ বলেন, এসব এলাকায় অভিযানে গেলে পুলিশ সংখ্যায় কম থাকলে বসবাসকারীদের নিয়ে মাদক বিক্রেতারা হামলা চালায়।
“এধরনের কয়েকটি ঘটনা এখানে ঘটেছে। আর বেশি সংখ্যক পুলিশ নিয়ে অভিযানে গেলে টের পেয়ে সবাই পালিয়ে যায়।”
তিনি আরও বলেন, পুলিশের কোন সদস্য যদি অভিযানের কোন তথ্য ফাঁস করার প্রমাণ পাওয়া যায় নি। যদি এ ধরনের কোন অভিযোগ আসে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ বিভাগীয় শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 

২য় রাজধানী এর আরো খবর