বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯
logo
ঘরমুখে যাত্রা: ভোগান্তি হলেও গাড়িতে উঠতে পারায় স্বস্তি
প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১২:২৫:৪০
প্রিন্টঅ-অ+

চট্টগ্রাম: ঈদের আগে শেষ কর্মদিবসে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে ভোগান্তির পরও গন্তব্যের যানবাহনে চড়তে পারার স্বস্তি নিয়ে বাড়ি ফিরছে ঘরমুখো মানুষ।
প্রিয়জনের সাথে ঈদ করতে বাড়ি ফেরার আনন্দ নিয়ে তারা চট্টগ্রাম ছাড়ছেন।
বৃহস্পতিবার ঈদ যাত্রার দ্বিতীয়দিন বিকালে চট্টগ্রাম রেল স্টেশনে বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে সবচেয়ে বেশি।
মঙ্গলবার কোরবানির ঈদ হলেও শুক্রবার ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে রোববারও ছুটি ঘোষণা করায় ঈদের আগের শেষ কর্মদিবসে রেল স্টেশনসহ দূরপাল্লার বাস টার্মিনালগুলোতেও বিভিন্ন পেশার মানুষের ছিল উপচে পড়া ভিড়।
বৃহস্পতিবার বিকালে সরেজমিনে চট্টগ্রাম রেল স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, নির্দিষ্ট আসনের বাইরে দাঁড়িয়ে যাওয়া যাত্রীদের ভিড়ে ট্রেনের ভেতর যেন তিল ধারণের ঠাঁই নেই; ছাদে দেখা যায় অসংখ্য যাত্রী।
চট্টগ্রাম থেকে চাঁদপুরগামী ৮২৩ আসনের ট্রেনের চিত্র এটি; বিকাল সোয়া ৫টার ট্রেনটি প্রায় দেড় ঘণ্টা দেরি করে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে চট্টগ্রাম স্টেশন ছেড়ে যায়।
ভিড়ের মধ্যে ট্রেন উঠতে না পেরে অনেককেই হতাশ হয়ে ঘরে ফিরতেও দেখা গেছে।
সালমা আক্তার নামে এক ট্রেন যাত্রী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গত ৩০ তারিখ ট্রেনের টিকিট কিনলেও আজ ভিড়ের কারণে উঠতে পারিনি। তাই বাধ্য হয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছি।”
শুক্রবার বিশেষ ট্রেনে বাড়ি যাওয়ার চেষ্টা করবেন বলে জানান তিনি।
আর যারা ভিড় ঠেলে ট্রেনে উঠতে পেরেছে তাদের মধ্যে স্বস্তির নিঃশ্বাস। অনেকেই ট্রেনের ভেতরে জায়গা না পেয়ে উঠেছেন ছাদে।
মো. রুবেল নামে এক যাত্রী বলেন, “ভেতরে উঠতে না পেরে ছাদে উঠেছি। পরিবারের দুই মহিলা সদস্য নিয়ে ছাদে উঠলেও বাড়ি যেতে পারছি সেটাই আনন্দের।”
চট্টগ্রাম থেকে চাঁদপুরগামী মেঘনা এক্সপ্রেস ছেড়েছে সোয়া ঘণ্টা দেরিতে। ছাড়তে দেরি হওয়ায় বরিশালগামী যাত্রীদের মাঝে লঞ্চ ধরতে না পারার শঙ্কাও দেখা দেয়।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী কামাল উদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ঠিক সময়ে ট্রেনটি ছাড়লে ১০টার মধ্যেই চাঁদপুর পৌঁছাত। সেখান থেকে বরিশালের লঞ্চ ধরে বাড়ি যেতাম।”
একদিকে ট্রেনের দেরি, আর তার সঙ্গে যাত্রীর চাপ থাকায় চাঁদপুর পৌঁছে বরিশালের লঞ্চ ধরা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।
চট্টগ্রাম রেল স্টেশনের ব্যবস্থাপক আবুল কালাম আজাদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, ট্রেনটি প্রতিদিন ১৫টি বগি নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে চাঁদপুর গেলেও বৃহস্পতিবার একটি অতিরিক্ত বগি সংযোজন করা হয়েছে।
এদিকে চারটি বগির যান্ত্রিক ত্রুটি থাকায় তা ঠিক করতে ট্রেন ছাড়তে দেরি বলে জানান তিনি।
স্টেশন ব্যবস্থাপক আরও জানান, ৯ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চাঁদপুর রুটে বেলা সাড়ে ১১টা ও সাড়ে ৩টায় মোট দুইটি করে বিশেষ ট্রেন রাখা হয়েছে।
এদিকে ট্রেনে ৮২৩ আসনের টিকিটের পাশাপাশি ট্রেন ছাড়ার আগে আরও দেড় হাজারের মতো ‘স্ট্যান্ডিং’ টিকিট বিক্রি হয়েছে বলে জানান আজাদ।
চট্টগ্রাম রেল স্টেশন থেকে বিকালে ছেড়েছে ঢাকাগামী মহানগর গোধুলী, সোনার বাংলা এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন গন্তব্যের বেশ কয়েকটি ট্রেন। এসব ট্রেনেও দূরপাল্লার যাত্রীদের ভিড় ছিল লক্ষ্যণীয়।
এছাড়া বিকাল থেকে চট্টগ্রাম থেকে দূরপাল্লার বিভিন্ন জেলার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া বাসগুলোতেও ছিল যাত্রীদের ভিড়।
নগরীর অলংকার মোড়, বিআরটিসির মোড়সহ বাস টার্মিনালগুলোতে ঘরমুখো যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে।
 

২য় রাজধানী এর আরো খবর