বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯
logo
ঈদ ঘিরে জাল টাকার ছড়াছড়ি
প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৭:২৯:৩৬
প্রিন্টঅ-অ+
চট্টলা ওয়েব

চট্টগ্রাম: কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে জাল টাকা ছড়িয়ে দিচ্ছে একাধিক প্রতারক চক্র। এই চক্রটি বাজারে টাকা ছাড়ছে হুন্ডি ব্যবসায়ী ও দিন মজুর শ্রেণীর মানুষের মাধ্যমে। জাল টাকা হাতে পাওয়া লোকজন বলেছেন অজ্ঞতার কারণে জাল নোট সনাক্ত করতে না পারায় তারা প্রতারিত হচ্ছেন। জাল টাকা হাত বদল করেই বহনকারীরা দ্রুত সরে পড়ে। পরিচিত কারো হাত হয়ে এই টাকা আসলেও পরে যোগাযোগ করলে তাদের হাত দিয়ে জাল টাকা যাওয়ার ঘটনা বেমালুম অস্বীকার করে।
জানা গেছে, ঈদুল আজহাকে টার্গেট করে মিরসরাইয়ে ছাড়া হয়েছে ৫০০ ও ১০০০ টাকার জাল নোট। আসল টাকার বান্ডেলের ভেতরে কৌশলে ঢুকিয়ে দেয়া হচ্ছে জাল নোট। এ কারণে আতঙ্কে রয়েছে ব্যবসায়ীসহ উপজেলার সাধারণ মানুষ। উপজেলার প্রতিটি বড় বাজারে তাদের স্থানীয় এজেন্টরা নিম্ন আয়ের (রিকশাচালক, অটোরিকশাচালক, দিনমজুর, বিভিন্ন পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের এমআর) লোকদের দিয়ে কৌশলে ৫০০ ও ১০০০ টাকার জাল নোট বাজারে ছাড়ে।
সূত্র জানায়, হাদিফকিরহাট, বড়দারোগার হাট, বড়তাকিয়া, আবুতোরাব, মিঠাছড়া, বারইয়ারহাট, করেরহাট বাজারে কয়েকজন রিকশাচালক রয়েছে যারা প্রতিটি জাল ৫০০ টাকার নোট দুই থেকে আড়াইশ' টাকায় এবং ১০০০ টাকার জাল নোট ৪০০-৫০০ টাকায় কিনে নেন। এরপর তারা বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বাজার শেষে দোকানিতে ধরিয়ে দেন সেই জাল নোট। নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষ হওয়ায় তাদের কেউ সন্দেহ করে না। তাই তারা নির্বিঘ্নে করে চলেছে এ অপকর্ম।
উপজেলার বেশ কয়েকজন হুন্ডি ব্যবসায়ী ও দু'একটি ব্যাংক থেকেও জাল নোট সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে। হুন্ডির মাধ্যমে প্রবাসীদের পাঠানো টাকা হুন্ডি ব্যবসায়ীরা প্রবাসীদের স্ত্রীকে নগদ দেয়ার সময় জাল টাকার বান্ডেল ধরিয়ে দেয়। পরে বাজার খরচ কিংবা মার্কেটিং করার সময় ওই জাল টাকার নোট নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় প্রবাসীর স্ত্রীদের।
উপজেলার এক ঠিকাদার ব্যবসায়ী জানান, পাওনা দেয়ার জন্য তার এক আত্মীয় উপজেলার একটি ব্যাংক থেকে দেড় লাখ টাকা উত্তোলন করে তাকে দেন। সে টাকা সদর ন্যাশনাল ব্যাংকে জমা দিতে গেলে সেখানে একটি পাঁচশ' টাকার নোট জাল বলে ধরা পড়ে।
উপজেলার ওয়াহেদপুর এলাকার রাজমিস্ত্রী গিয়াস উদ্দিন জানান, কয়েকদিন পূর্বে তিনি সোনালী ব্যাংক নিজামপুর শাখা থেকে ১০ হাজার টাকা উত্তোলন করেন। বাড়িতে গিয়ে দেখেন ৫০০ টাকা নোটের এই ব্যান্ডেলে ২টি নোট জাল। পরে ব্যাংকে বিষয়টি অবহিত করলেও তারা অস্বীকার করেন।
মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা  (ওসি) ইমতিয়াজ এমকে ভূঁইয়া বলেন,  জাল টাকার নোট যার হাতে যায় আইন অনুযায়ী সেই অপরাধী। সবাইকে সাবধানতার সঙ্গে ৫০০ও ১০০০ টাকার নোট নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।তিনি আরো বলেন,  ঈদ ও পূজা এলেই একটি চক্র বাজারে জাল নোট ছাড়ে। কারো বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়া আহমেদ সুমন বলেন, এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের বৈঠকে করণীয় নির্ধারণ করা হবে।

২য় রাজধানী এর আরো খবর