বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯
logo
মামাত বোনকে হত্যার দায় আইএসের ঘাড়ে!
প্রকাশ : ০৫ আগস্ট, ২০১৬ ১৫:০৮:৫৯
প্রিন্টঅ-অ+
চট্টলা ওয়েব

চট্টগ্রাম : টাকা চুরির দায়ে মামীর হাতে লাঞ্ছিত হওয়ার প্রতিশোধ নিতে গলা টিপে তিন বছরের মামাতো বোনকে হত্যা করেছে শিশুটির ফুফাতো বোন। পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ডের পর বিশ্বব্যাপী আলোচিত জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের ওপর হত্যার দায় চাপাতে চেয়েছিল সে।
তবে পুলিশের অব্যাহত জেরার মুখে নিজের দায় স্বীকার করেছে ইপিজেড থানার আলিশাহ কবরস্থান গলির আজাদ মঞ্জিলের বাসিন্দা শাম্মী আকতার (১৬)।
পোশাককর্মী এ কিশোরী বুধবার সকালে এ হত্যাকাণ্ডের পর রাতে পুলিশের পুলিশের জেরার মুখে হত্যার এ দায় স্বীকার করে। পরে বৃহস্পতিবার রাতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে চট্টগ্রামের একটি আদালতে।
জবানবন্দির বরাত দিয়ে ইপিজেড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাবেদ মাহমুদ বাংলামেইলকে জানান, ইপিজেড থানার আলিশাহ কবরস্থান গলির ভাড়াটিয়া পোশাককর্মী শাম্মী আকতারের সঙ্গে তার মামী ও প্রতিবেশি হাবিুবর রহমানের স্ত্রীর বিরোধ ছিল। টাকা চুরির দায়ে মামীর হাতে লাঞ্ছিত হয়েছিল সে। এ ঘটনায় প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে উঠে শাম্মী আক্তার। লাঞ্ছনার প্রতিশোধ নিতে গত বুধবার দুপুরের দিকে খেলার কথা বলে শাম্মী আক্তার তার তিন বছর বয়সী মামাতো বোন রিয়াকে নিজ বাসায় নিয়ে যায়। পরে সেখানে তাকে গলা টিপে হত্যা করে লাশ পানির ড্রামের মধ্যে লুকিয়ে রাখে।
ঘটনার পর রিয়াকে খোঁজ করলে তার (রিয়ার) ছয় বছরের বড় বোন তার বাবাকে জানায়, ফুফাত বোন শাম্মীর সঙ্গে বাসায় খেলতে গিয়েছিল রিয়া। এরপর থেকেই তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর ঘটনা জানিয়ে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন রিয়ার বাবা হাবীবুর রহমান। ঘটনাস্থলে গিয়ে ইপিজেড থানা পুলিশ সন্দেহভাজন শাম্মী আক্তারকে আটক করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করতে থাকে শাম্মী। এসময় সে বলে আইএস জঙ্গিরা বাসায় এসে তাকে জিম্মি করে রিয়াকে নিয়ে গেছে। আবার বলে, শাম্মীর প্রেমিক এসে রিয়াকে নিয়ে গেছে। এরপর পুলিশের সন্দেহ আরো ঘণীভূত হলে একপর্যায়ে শাম্মী তার মামাত বোনকে হত্যা করে পানির ড্রামের ভেতর লুকিয়ে রাখার কথা স্বীকার করে। পরে তার তথ্য অনুযায়ী লাশ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় রিয়ার বাবা বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শাম্মী আকতারকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আদালতে পাঠানো হয়। সেখানে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় ঘাতক শাম্মী। পরে তাকে জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

২য় রাজধানী এর আরো খবর