বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯
logo
চবিতে ছাত্রলীগের দুগ্রুপে ব্যাপক সংঘর্ষ, গোলাগুলি
প্রকাশ : ২১ জুলাই, ২০১৬ ১১:৫৮:২৮
প্রিন্টঅ-অ+
চট্টলা ওয়েব

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে অন্তত ৩০/৩৫ রাউন্ড গুলি বিনিময়ের ঘটনাও ঘটে বলে জানা গেছে।
বুধবার রাত ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী অনুসারী ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছিরের অনুসারীর একটি অংশ, যারা বিশ্ববিদ্যালয় সদ্য ছাত্রলীগের কমিটিতে পদ বঞ্চিত ও আশানুরুপ পদ পায়নি তাদের সঙ্গে সদ্য কমিটিতে আসা নেতা-কর্মীদের মাঝে এ সংঘর্ষ বাঁধে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, প্রায় ৪০ মিনিট ছাত্রলীগের পদ বঞ্চিত ও আশানুরুপ পদ না পাওয়া ছাত্রলীগের সাথে সদ্য কমিটিতে স্থান পাওয়া নেতা-কর্মীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। পরে পদ বঞ্চিত ও আশানুরুপ পদ না পাওয়া ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয় সোহরাওয়ার্দী হলের সামনে ও সদ্য কমিটিতে স্থান পাওয়া ছাত্রলীগ শাহ জালাল ও শাহ আমানত হলে অবস্থান নেয়।
এসময় তাদের মধ্যে ৩৫ রাউন্ড গুলি বিনিময় হয়। পদ বঞ্চিত পক্ষের ছাত্রলীগের ‘বাংলার মুখের’ এক কর্মী আবির ইকবাল নামে একজন আহতও হয়েছেন। তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।সংঘর্ষ এখনও থেমে থেমে চলছে।
চবির পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোকাদ্দেশ হোসেন রাত ২ টার দিকে বাংলামেইলকে বলেন, ‘ছাত্রলীগের একটি পক্ষ সোহরাওয়ার্দী হলে ও অপর পক্ষ শাহ জালাল ও শাহ আমানত হলে অবস্থান নিয়েছে। এর আগে নিজেদের মধ্যে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এসময় ৩৫ রাউন্ড গুলির শব্দ শুনা যায়। একজন গুরুত্বর আহতও হয়েছে বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা চলছে।’
বিশ্ববিদ্যালয় এক সহকারী প্রক্টর নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলামেইলকে বলেন, ‘কমিটি নিয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ বেঁধেছে। সংঘর্ষ থামাতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।’
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় জিরো পয়েন্টে আশে পাশে অবস্থান নেয়া কর্মরত এক সাংবাদিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাত আড়াইটার দিকে বাংলামেইলকে জানান, ব্যাপক গুলাগুলির শব্দ শুনা গেছে। এর মধ্যে ছাত্রলীগের পদ পাওয়া ও পদ বঞ্চিত কর্মীদের হাতে রামদা ও বড় বড় অস্ত্র দেখা গেছে। দুই পক্ষই ঘণ্টাব্যাপি গুলিবিনিময় করেছে।
তিনি জানান, রাত হওয়ায় ক্যাম্পাসে পুলিশও যথেষ্ট পরিমাণ ছিলনা। পরে অবশ্য এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে জানান এই সাংবাদিক।
এর আগে গত ২ দিন বিশ্ববিদ্যালয় মূল ফটকে তালা, এক নম্বর গেটের সামনে হাটহাজারী-রাঙামাটি সড়কটি অবরোধ করে রাখে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের পদ বঞ্চিত ও আশানুরুপ পদ না পাওয়া নেতা-কর্মীরা। সর্বশেষ বুধবারও শাটল ট্রেন ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকবাসও অবরোধ করে রাখে তারা। ফলে ওইদিন কোনোবিভাগে ক্লাস-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ২০ জুলাই দুই সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠনের পর সাত মাসে চার দফা সংঘর্ষ হয়। পরে গত ফেব্রুয়ারির ৯ তারিখ (মঙ্গলবার) রাতে কেন্দ্র থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করে দেয়া হয়। কমিটি শেষ হওয়ার ২ দিন আগে গত (সোমবার) ২০১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি দেয় কেন্দ্র। যে কমিটিতে ত্যাগীদের মূল্যায়ন করেনি বলে দাবি করে আসছে ছাত্রলীগের একটি অংশ।

২য় রাজধানী এর আরো খবর