বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯
logo
চবির শাটল ট্রেন অবরোধ, চাবি নিয়ে গেল শিক্ষকবাসের
প্রকাশ : ২০ জুলাই, ২০১৬ ১২:১৬:৩০
প্রিন্টঅ-অ+
চট্টলা ওয়েব

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগে সদ্য অনুমোদিত কমিটিতে পদ বঞ্চিত ও আশানুরুপ পদ না পাওয়া ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবরোধের ১ম দিনেই শাটল ট্রেন আটকে রেখেছে। একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকবাসের সব চাবি নিয়ে গেছে তারা।
বুধবার সকালে পদবঞ্চিতদের পৃথক অবরোধে এসব ঘটনা ঘটে।
অবরোধে অংশ নেয় নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী অনুসারী ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছিরের অনুসারীর একটি অংশ। যারা বিশ্ববিদ্যালয় সদ্য ছাত্রলীগের কমিটিতে পদ বঞ্চিত ও আশানুরুপ পদ পায়নি বলে দাবি করে আসছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, নগরীর ঝাউতলা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গামী সাড়ে ৭টার শাটল ট্রেনটি ষোলশহর স্টেশনে ৭টা ৪০ দিকে আসার সাথে সাথে পদ বঞ্চিতরা আটকে দেয়। এমনকি ট্রেনের ড্রাইভারকে অপহরণ করার চেষ্টা চালায় তারা। কিন্তু ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি দল ড্রাইভারকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়।
পরে ওই শাটল ট্রেনটি এক ঘন্টা পর ৮টা ৫০ দিকে ষোলশহর স্টেশন থেকে বিশ্ববিদ্যালয় উদ্দেশে ছেড়ে যায়। কিন্তু শাটল ট্রেনটি ফরেস্ট গেইট অতিক্রম করার সময় শাটল ট্রেন লক্ষ্য করে উপর্যপুরি ইট-পাটকেল ছোড়ে তারা। এসময় একজন পুলিশ সদস্যও আহত হয়। পরে শাটল ট্রেনটি বিশ্ববিদ্যালয় দিকে যেতে না পেরে ষোলশহর স্টেশনে দিকে ফিরে আসে। এখনও কোনো শাটল ট্রেন বিশ্ববিদ্যালয় উদ্দেশে ছেড়ে যেতে পারেনি। ফলে ষোলশহর স্টেশনে শত শত শিক্ষার্থী আটকে আছে।
এদিকে সকালে ভোরে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহণ দপ্তরে এসে সকল শিক্ষকবাসের ড্রাইভার থেকে চাবি নিয়ে গেছে বলে জানা গেছে। ফলে মূলত আজ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো বিভাগে ক্লাস ও পরীক্ষা দুটোই না হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
মহিউদ্দিন চৌধুরী অনুসারী ও সদ্য কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগে পদ বঞ্চিত নুরুজ্জামান বাংলামেইলকে বলেন,  ‘ত্যাগীদের মূল্যায়ন না করে (টিপু-সুজন) কমিটি দিছে, এটি আমরা মানি না। যতদিন সংশোধন করে কমিটি  না দিবে ততদিন এই অবরোধ চলমান থাকবে। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ আশা করছি এই বঞ্চিতদের দিকে সদায় দৃষ্টি দিবে।’
অা জ ম নাছির সমর্থিত ও সদ্য কমিটির সহ সভাপতি মো. মামুন বাংলামেইলকে বলেন, ‘সদ্য অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কমিটিতে ত্যাগিদের মূল্যায়ন না করে অক্ষম ও অযোগ্যদের কমিটিতে আনা হয়েছে। পুরোটাই বির্তকিত একটি কমিটি। কমিটি সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলমান থাকবে।’
ষোলশহর স্টেশন মাস্টার শাহাব উদ্দিন বাংলামেইলকে বলেন, ‘দুইবার শাটল ট্রেন বিশ্ববিদ্যালয় উদ্দেশে  যেতে চাইলেও অবরোধকারীরা যেতে দেয়নি। আমরা বিষয়টা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।’
বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরী বাংলামেইলকে বলেন, ‘যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য যদিও পুলিশকে আগে থেকে বলা আছে। আমরা বিষয়টি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বলেছি।’
উল্লেখ্য, এর আগে ২দিন বিশ্ববিদ্যালয় মূল ফটকে তালাসহ এক নম্বর গেটের সামনে হাটহাজারী-রাঙামাটি সড়কটি অবরোধ করে রেখেছিল পদ বঞ্চিতরা।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ২০ জুলাই দুই সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠনের পর সাত মাসে চার দফা সংঘর্ষ হয়। পরে গত ফেব্রুয়ারির ৯ তারিখ (মঙ্গলবার) রাতে কেন্দ্র থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করে দেয়া হয়। কমিটি শেষ হওয়ার ২ দিন আগে গত (সোমবার) ২০১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি দেয় কেন্দ্র। যে কমিটিতে ত্যাগীদের মূল্যায়ন করেনি বলে দাবি করে আসছে ছাত্রলীগের একটি অংশ।

২য় রাজধানী এর আরো খবর