সোমবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯
logo
ঈদের নামাজ শেষে উৎসবে চট্টগ্রামবাসী
প্রকাশ : ০৭ জুলাই, ২০১৬ ১৫:৫৮:৫০
প্রিন্টঅ-অ+
চট্টলা ওয়েব

চট্টগ্রাম : বৃষ্টির আশংকাকে উড়িয়ে দিয়েই যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য আর বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন চট্টগ্রামের মানুষ।
গত কয়েক দিনের ধারাবাহিকতায় আবাহাওয়া অফিসের বরাতে বৃষ্টির আশংকা প্রকাশ করা হলেও ঈদের দিন সকাল থেকে চট্টগ্রামে বৃষ্টি হয়নি। ফলে সোনালি রৌদ্রময় আবহাওয়ায় ঈদুল ফিতরের বর্ণিল উৎসবে মেতেছেন চট্টগ্রামবাসী।
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে ঈদুল ফিতরের সবচেয়ে বড় এবং প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে নগরীর জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ ময়দানে। সকাল সাড়ে ৮টায় প্রথম জামাতে নগরীর জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ ময়দানে হাজার হাজার মুসল্লির সমাগম ঘটে।  
ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য এক কাতারে দাঁড়ান বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, ব্যবসায়ী-শিল্পপতিসহ নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে আসা সাধারণ মানুষ।  প্রথম জামাতে ইমামতি করেন জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদের খতিব জালালউদ্দিন আল কাদেরি।
জমিয়াতুল ফালাহ ময়দানে দুটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে লাখো মানুষের সমাগম ঘটে। দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করেন মসজিদের জ্যেষ্ঠ ইমাম আল্লামা মাওলানা নূর মোহাম্মদ সিদ্দিকী।
জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদে নামাজ আদায় করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নূরুল ইসলাম বিএসসি, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান, চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মীর মো. নাসির উদ্দিন, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাংসদ জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, নগর বিএনপির সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান ও সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাৎ হোসেন, জাতীয় পার্টির নেতা সোলায়মান আলম শেঠ।
প্রথম জামাতে ঈদের নামাজ শেষে খতিব দেশের মানুষের সুখ ও শান্তি কামনায় আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ জানান। মোনাজাতে খতিব দেশ ও সীমান্ত এবং মানুষের জানমাল হেফাজতের জন্য আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ জানান।   
সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে নগরীতে এবার ১৫৪টি স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৯০টি ঈদ জামাত। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাজনীতিক-মন্ত্রী এবং সাধারণ লোকজন পরস্পরের সঙ্গে করমর্দন করেন।
এদিকে নামাজ আদায় শেষে চিরাচরিত ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন বয়সী লোকজন নেমে এসেছেন রাস্তায়। পরিচিত, অপরিচিত, বিভিন্ন বয়সী লোকজন পরস্পরের সঙ্গে কোলাকুলি, করমর্দন, হাসি, ঠাট্টায় মেতে উঠছেন।
নগরীর বিভিন্ন স্থানে তরুণ, যুবকরা জড়ো হয়ে গান বাজিয়ে কিংবা হৈ, হুল্লোড় করে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করছেন।
ঈদ উপলক্ষে নগর ভবনসহ নগরীর বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ভবনে আলোকসজ্জা করা হয়েছে। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার, হাসপাতাল, এতিমখানা এবং জেলা প্রশাসনের সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত চট্টগ্রামের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে।

২য় রাজধানী এর আরো খবর