বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০
logo
ভারী বর্ষণে জলাবদ্ধতা, সড়কে হাঁটু পানি
প্রকাশ : ১৩ জুন, ২০১৬ ১৫:০৩:২৪
প্রিন্টঅ-অ+
চট্টলা ওয়েব

চট্টগ্রাম : বন্দরনগরী চট্টগ্রামে গত কয়েক দিনের মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও ব্যবসা-বাণিজ্য বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। টানা ভারী বর্ষণজনিত জলাবদ্ধতায় নগরীর নিচু এলাকা হাঁটু থেকে কোমর পানিতে ডুবে গেছে।
জৈষ্ঠের শেষ প্রান্তিকে এ বৃষ্টিপাত শুরু হয় মঙ্গলবার সকাল থেকে। রোববার রাত থেকে থেমে থেমে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকে। সোমবার ভোর থেকে শুরু হয় টানা কয়েক ঘণ্টার ভারী বর্ষণ। এতে জলাবদ্ধতায় নগরীর নিচু এলাকার সড়ক, লেইন, বাই-লেইন হাটু থেকে কোমর পানিতে তলিয়ে গেছে।
নগরীর বৃহত্তর বাকলিয়ায় বিভিন্ন অংশ,বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, চাক্তাই, খাতুনগঞ্জ, সিডিএ এভিন্যুর ষোলশহর ২ নং গেইট থেকে মুরাদপুরের মধ্যবর্তী এলাকা, চান্দগাঁও বি-ব্লক, চকবাজার, শুলকবহর, নগরীর প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা খ্যাত আগ্রাবাদের সরকারি কমার্স কলেজ, হোটেল আগ্রাবাদ, হালিশহর মোগলটুলি, পাথারঘাটা এলাকার বিভিন্ন সড়ক হাঁটু পানিতে ডুবে গেছে। সবচেয়ে দুর্ভোগে পড়েন সকালে বাসা থেকে কর্মস্থলে যাওয়া নানা পেশার মানুষ। নগরীর বিভিন্ন সড়কে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটার কারণে সৃষ্ট যানজটে মানুষের ভোগান্তি চরমে।
বৃষ্টিতে বাইরে বের হয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন কর্মব্যস্ত মানুষ। অনেককে ছাতা মাথায় বাইরে বের হতে দেখা যায়। রিকশা চালক ও শ্রমিকদের পলিথিন মাথায় বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচার চেষ্টা করছেন। কেউ ছাতা না নিয়ে বের হওয়ায় তাদের বৃষ্টির মাঝে পড়ে বিভিন্ন স্থানে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। বরাবরের মত সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শ্রমজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষেরা। বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন ফুটপাত ও খোলা স্থানে বসবাসকারী বাস্তুহারা মানুষ আর শ্রমজীবীরা দুর্ভোগে আছেন।
অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় যানবাহন চলাচল কম থাকায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে মারাত্মক দুর্ভোগে পড়েছে নগরবাসী। এ সুযোগে সিএনজি-চালিত টেক্সি আর রিকশাওয়ারা দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ ভাড়া আদায় করছে। এদিকে রাতভর ভারী বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাসে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে বলে বন্দর সূত্র জানায়।
এদিকে আবহাওয়া পূর্বাভাস জানতে একাধিকবার পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসে যোগাযোগের একাধিকবার চেষ্টা করে ফোনে পাওয়া যায়নি।
তবে গতকাল সকালে চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিস সূত্র জানিয়েছিলো, বায়ু চাপের তারতম্যের কারণে সাগরের সঞ্চালনশীল মেঘমালায় সৃষ্টি হয়েছে। আর এতেই ঝড়ছে টানা বৃষ্টি। এদিকে লঘুচাপের কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।  সম্ভাবনা রয়েছে  বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির। গত ২৪ ঘন্টায় পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস কেন্দ্রে ৫০ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।
ওই দিন আবহাওয়া পূর্বাভাস কর্মকর্তা শেখ হারুনর রশিদ বাংলামেইলকে বলেন, ‘আগামী সপ্তাহে প্রবেশ করতে পারে মৌসুমী বায়ু, এর পরই শুরু হবে বর্ষাকাল। বায়ু চাপের তারতম্যের কারণে সাগরের সঞ্চালনশীল মেঘমালায় সৃষ্টি হয়েছে। ওই সঞ্চালনশীল মেঘমালার কারণে সাগরে ঝড়ো হাওয়া বইছে। বৃষ্টির কারণে কমেছে তাপমাত্রা। আজ চট্টগ্রামের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত শনিবার  সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ব ২৫ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।’
নগরীর অধিকাংশ খাল, নালা নর্দমা ভরাট ও বেদখল হয়ে যাবার কারণে অতিবৃষ্টিতে দ্রুত পানি নিষ্কাশনে বিঘ্ন ঘটায় জলাবদ্ধতা এখন নগরবাসীর নিত্য দুর্ভোগের প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যদিও  মাটি উত্তোলন ও নালা-নর্দমা সংস্কারের নামে দু’বছরে ২০ কোটি টাকা খরচ করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। কিন্তু এরপরও নগরবাসী জলাবদ্ধতার হাত থেকে মুক্তি পায়নি।
বাকলিয়া খালপাড় এলাকার বাসিন্দা মো. মোরশেদ বাংলামেইলকে বলেন, ‘আমাদের মূল সমস্যা হলো পানি নিষ্কাশনের পথগুলো একে একে বন্ধ হয়ে গেছে। আগে যেসব খাল, জলাধার, নালা ছিল সবই যেন উধাও হয়ে গেছে। এতে পানি প্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে। সড়কে প্রায় সময়ই পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।’

২য় রাজধানী এর আরো খবর