বুধবার, ২৭ মে ২০২০
logo
মিতু হত্যা : ফের লাগানো হচ্ছে সিসি ক্যামেরা
প্রকাশ : ১১ জুন, ২০১৬ ২০:১০:১০
প্রিন্টঅ-অ+
চট্টলা ওয়েব

চট্টগ্রাম : অবৈধ বিলবোর্ডের সঙ্গে গত ফেব্রুয়ারিতে নামিয়ে ফেলা সিএমপির লাগানো ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরাগুলোও ফের লাগানো হচ্ছে সিএমপির পক্ষ থেকেই। মূলত সিসি ক্যামেরা উদ্যোগক্তা পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যার পর সিসি ক্যামেরা ফুটেজের ‘অভাবে’ খুনিদের ধরতে বেগ পোহাতে হচ্ছে সিএমপিকে। এর পরপরই নামিয়ে ফেলা ৭৮টি সিসি ক্যামেরা লাগানোর উদ্যোগ নেয় সিএমপি।
শনিবার বিকেলে থেকেই সিসি ক্যামেরা লাগানোর কাজ শুরুর কথা জানিয়েছেন সিএমপির সহকারী কমিশনার (আইসিটি, পিআর ও প্রশাসন) জাহাঙ্গীর আলম।
তিনি বাংলামেইলকে বলেন, ‘বাবুল আক্তার স্যারের স্ত্রী হত্যার পর সিসি ক্যামেরা ফুটেজের অভাবটি আামরা বুঝতে পেরেছি। সেকারণে অতিরিক্ত কমিশনার মাইনুল স্যারের নির্দেশে আজ বিকেল থেকেই নামিয়ে ফেলা সিসি ক্যামেরাগুলো লাগানোর কাজ শুরু হয়েছে। আজকে (শনিবার) যা লাগাতে পারব পারব, বাকীগুলো আগামীকালের মধ্যে লাগিয়ে ফেলব।’
জানা যায়, মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন সিটি প্রতিষ্ঠার লক্ষে গত ফেব্রয়ারি মাসে অবৈধ বিলবোর্ডের সাথে সিএমপির লাগানো ৯৯টি সিসি ক্যামেরা মধ্যে ৭৭টি ক্যামেরা নামিয়ে ফেলা হয়েছে। ফলে নগরীর অপরাধ দমন ও যানজট নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশে লাগানো সিসি ক্যামেরাগুলো কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে। পুরো নগরীর অপরাধ দমনের উদ্দেশে লাগানো ৯৯টি ক্যামেরার মধ্যে বর্তমানে সচল রয়েছে মাত্র ২১টি সিসি ক্যামেরা।
ফলে অপরাধী সনাক্তে ব্যক্তিগত ভবনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে সিএমপিকে। যেমনটি ঘটেছে গত ৫ জুন জিইসি মোড় এলাকায় সংঘটিত বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকাণ্ডের বেলায়। ওই সময়ে অপরাধী সনাক্তে সিএমপিকে ঘটনাস্থলের পাশের প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে লাগানো সিসি ক্যামরোর ফুটেজের ওপর নির্ভর করেই অপরাধীদের সনাক্ত করতে হচ্ছে। যদিও অস্পষ্ট ছবির কারণে অপরাধীদের সনাক্ত করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্টদের।
সিএমপি সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের জুন মাসে নগর গোয়েন্দা পুলিশের তৎকালীন অতিরিক্ত উপ কমিশনার বাবুল আক্তারের পরিকল্পনা ও তত্ত্বাবধানে নগরীর সাতটি প্রবেশপথসহ ২৬টি স্পর্শকাতর পয়েন্টে নগর পুলিশের পক্ষ থেকে ৯৯ টি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা লাগানো হয়েছিল। এসব ক্যামেরা মধ্যে গাড়ির নম্বর সংরক্ষণ করার জন্য পিটিজেড ক্যামেরা, ফেস ডিটেক্টর ক্যামেরা ও ১২০০ টিবিএলসহ মোট তিন ধরণের ক্যামেরা লাগানো হয়েছিল। ডব্লিউ থ্রি এক্সপ্লোরার নামে একটি সংস্থা এসব ক্যামেরা স্থাপন করেছিল। আর স্পট থেকে এসব ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণের জন্য নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সাথে ফাইবার অপটিক সংযোগের কাজটি করেছিল বেসরকারি ক্যাবল অপারেটর প্রতিষ্ঠান চিটাগং কমিউনিকেশনস লিমিটেড (সিসিএল)।
সিএমপি সূত্র মতে, নগরীতে সিএমপির উদ্যোগে লাগানো ৯৯টি সিসি ক্যামেরার মধ্যে নামিয়ে ফেলা হয়েছে মোট ৭৭টি ক্যামেরা। এরমধ্যে নিউ মার্কেট এলাকায় ৩টি, শাহ আমানত সেতু এলাকায় ৪টি, জিইসি মোড় এলাকায় ৪টি, মুরাদপুর মোড়ে ৪টি, রাহাত্তার পুল মোড়ে ৩টি, বহদ্দারহাট মোড়ে ৪টি, চকবাজার মোড়ে ১টি, সাগরিকার মোড়ে ৩টি, অক্সিজেন মোড়ে ৪টি, পিই্এচপি স্পিনিং মিলের সামনে ২টি,  সিটি গেট এলাকায় ৩টি, কাজীর দেউড়ি মোড়ে ১টি, কাপ্তাই রাস্তার মাথায় ৩টি, দেওয়ান হাট ব্রিজ এলাকায় ৪টি, ইপিজেড মোড়ে ৪টি, ইস্পাহানি মোড়ে ২টি, কর্ণেল হাট মোড়ে ৩টি, অলংকার মোড়ে ৪টি, বাদামতলী মোড়ে ৪টি, বড়পুল মোড়ে ৪টি, প্রর্বত্তক মোড়ে ৪টি, নিমতলা বিশ্বরোড মোড়ে ৪টি, টেরিবাজার মোড়ে ৪টি, কালী বাড়ি মোড়ে ৪টি সিসি ক্যামেরা রয়েছে।
আর এখনও সচল রয়েছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় ৮টি, ইস্পানি মোড়ে ২টি, কাজীর দেউড়ি মোড়ে ২টি, চকবাজার মোড়ে ৩টি, আকবর শাহ মোড়ে ৩টি, নিউ মার্কেট মোড়ে ৩টিসহ মোট ২১ টি সিসি ক্যামেরা।
তবে সিএমপির শীর্ষ কর্মকর্তারা বলছেন, প্রথম দিকে কোনটা অবৈধ আর কোনটা বৈধ বিলবোর্ড দেখে না সিসি ক্যমেরাগুলো লাগানোয় সিটি করপোরেশনেরা অবৈধ বিলবোর্ড উচ্ছেদ অভিযানে নামিয়ে ফেলা হয়েছে। এখন নতুন করে সিএমপির নিজস্ব অর্থায়নেই এসব ক্যামেরাগুলো লাগানো হচ্ছ। সেজন্য তাদের বাড়তি গুণতে হচ্ছে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা।
ওই সময়ে বাবুল আক্তার বাংলামেইলকে জানিয়েছিলেন, ২০১৪ সালে যখন সিসি ক্যামেরা স্থাপনে মোট ২৪ লাখ টাকা খরচ পড়েছিল। যার মধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির আর্থিক সহযোগিতা থেকে পাওয়া গিয়েছিল প্রায় ২১ লাখ টাকা। বাকী তিন লাখ টাকা সিএমপির নিজস্ব তহবিল থেকে দেয়া হয়েছিল।
বিলবোর্ড উচ্ছেদ ও ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজের ফলে নামিয়ে ফেলা এসব সিসি ক্যামেরা কোথায় লাগানো হবে এমন প্রশ্নের জবাবে সিএমপির সহকারী কমিশনার (আইসিটি, পিআর ও প্রশাসন) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আগের স্থানেই আমরা এসব সিসি ক্যামেরা লাগাব। তবে যেখানে ফ্লাইওভারের নির্মাণের কাজ চলছে, সেখানকার আশপাশের স্থানে সুবিধাজনক স্থানে এসব ক্যামেরা স্থাপন করব। আর বিলবোর্ড উচ্ছেদের ফলে যেসব ক্যামেরা নামিয়ে ফেলা হয়েছে সেগুলোও আশপাশের ভবনে লাগানো হবে।’

২য় রাজধানী এর আরো খবর