বুধবার, ২৭ মে ২০২০
logo
মিরসরাইয়ের ৬ ইউপিতে নির্বাচন
ভোটারদের আগ্রহ নেই, চলছে একতরফা প্রচার-প্রচারণা
প্রকাশ : ৩০ মে, ২০১৬ ১৮:৪৬:৫০
প্রিন্টঅ-অ+
চট্টলা ওয়েব

মিরসরাই: আগামী ৪ জুন অনুষ্ঠিতব্য মিরসরাইয়ের ৬টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে চলছে একতরফা প্রচার-প্রচারণা। ভোট নিয়ে কোনো আগ্রহ নেই ভোটারদের।
কারণ ভোট কেন্দ্রে গিয়ে সাধারণ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেনা বলে তারা নিশ্চিত।
ক্ষণ গণনার দিক দিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বেশ কম সময় বাকি থাকলেও এলাকা ঘুরে বোঝার উপায় নেই আর মাত্র চারদিন পরই এখানে অনুষ্ঠিত হবে ভোট। এছাড়া ৪টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান ও কয়েকটি ইউনিয়নে মেম্বাররা বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় আগ্রহের মাত্রা নেই বললেই চলে।
গত কয়েকদিন উপজেলার বেশ কয়েকটি নির্বাচনী এলাকা ঘুরে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থীদের কোন প্রচার-প্রচারণা চোখে পড়েনি।
ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীদের পোস্টার-ব্যানার ঝুলতে দেখা গেলেও প্রার্থীর নির্বাচনী অফিসগুলোতে দেখা গেছে রাজ্যের শূন্যতা।
স্থানীয় লোকজন জানায়, এখানকার নির্বাচনে বিভিন্ন দলের নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ জনতার অংশগ্রহণ নেই।
আগামী ৪জুন ৭টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। কিন্তু ১ নম্বর করেরহাট ইউনিয়নে চেয়ারম্যান ও সকল মেম্বার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় এই ইউনিয়নে ভোট অনুষ্ঠিত হবে না। ১৫ নম্বর ওয়াহেদপুর ইউনিয়নে সকল মেম্বার বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় শুধুমাত্র চেয়ারম্যান পদে নৌকা-ধানের শীষ প্রতীকে ভোট গ্রহণ হবে।
ইতোমধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন ১৪নং হাইতকান্দি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী, ১১নং মঘাদিয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসাইন মাস্টার, ১০নং মিঠানালা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান মো. খায়রুল আলম  এবং করেরহাট ইউনিয়নে চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন।
এছাড়াও ৭টি ইউনিয়নে মোট ৮৪জন মেম্বার পদে ৪৭জন মেম্বার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। তার মধ্যে সাধারণ ওয়ার্ডে ৩৭জন সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ১০জন নির্বাচিত হন।
৪ জুন নির্বাচনে অবশিষ্ট ৩টি ইউনিয়ন ১২ নম্বর খৈয়াছরা, ১৩ নম্বর মায়ানীতে চেয়ারম্যানসহ সকল পদে, ১১ নম্বর মঘাদিয়া, ১০ নম্বর মিঠানালা ও ১৪ নম্বর হাইতকান্দিতে শুধুমাত্র মেম্বার পদে ও ১৫ নম্বর ওয়াহেদপুরে শুধুমাত্র চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
খৈয়াছড়া ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান জাহেদ ইকবাল চৌধুরী (নৌকা), মো. গিয়াস উদ্দিন (ধানের শীষ), ১৩ নম্বর মায়ানী ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান মাস্টার কবির আহমদ নিজামী (নৌকা), নুর হোসেন (ধানের শীষ), ১৫ নম্বর ওয়াহেদপুর ইউনিয়নে ফজলুল কবির ফিরোজ (নৌকা), বর্তমান চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন সেলিম (ধানের শীষ) নিয়ে লড়াই করছেন। তবে পুরো উপজেলার নজর রয়েছে ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের দিকে।
বর্তমান চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন সেলিম বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী হওয়ায় দুশ্চিন্তায় রয়েছে আওয়ামী লীগ। তিনি পরপর দুইবার ওই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে। দল-মত নির্বিশেষে এলাকায় তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে।
বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীদের পক্ষে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ গণসংযোগ করছেন। নৌকা বেইস গলায় ঝুলিয়ে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গণসংযোগ করছেন তারা।
অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থীদের গণসংযোগ তো দুরের কথা ব্যানার পোস্টারও চোখে পড়েনি।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আলহাজ্ব জসীম উদ্দিন বলেন, মিরসরাইর সর্বত্র নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।
নৌকা জাতীয় প্রতীক, স্বাধীনতার প্রতীক, বঙ্গবন্ধুর প্রতীক, জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতীক, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের প্রতীক, সর্বোপরি দেশের সর্বস্তরের জনতার প্রতীক। তাই নৌকাকে বিজয়ী করতে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছি।  
মিরসরাই উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক শাহীদুল ইসলাম চৌধুরী অভিযোগ করেন, মনোনয়নপত্র জমাদানের পর থেকে একের পর হুমকি-ধামকি দিচ্ছে সরকার সমর্থিতরা।
মাইকিংসহ বিভিন্ন প্রচারণায় বাধা দেয়া হচ্ছে। প্রার্থী আত্মীয়-স্বজন, কর্মী সমর্থকদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে ওয়াহেদপুর তান্ডব চালাচ্ছে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর লোকজন।
অবশ্য বিএনপির এসব অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী বলেন, বিএনপি মাঠ পর্যায়ে ধানের শীষের পক্ষে কর্মী সমর্থক খুঁজে পাচ্ছে না। দলটির প্রতি জনগণ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
অভিযোগ তুলে নিজেদের বাঁচিয়ে রাখার পাঁয়তারা করছে তারা।

২য় রাজধানী এর আরো খবর